হারাম পয়সায় ভোট কেনার পরিবর্তে
“ভোট ভিক্ষা করেই সংসদে হাজির হব” — এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের তরুণ যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই শুরু করেন নির্বাচনি প্রচারণা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে নির্বাচনি এলাকায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন— ওলিগলিতে লিফলেট বিলি, ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা, এমনকি নিজের প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন নিয়মিত।
সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়— হাদি নির্বাচনি প্রচারণার সময় একজন ভিক্ষুকের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। সেই দৃশ্য ঘিরেই কিছু মানুষ মন্তব্য করেছেন, “ভোট ভিক্ষুক”। আর এই মন্তব্যের জবাবেই ওসমান হাদি নিজের ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দেন।
রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন,
“ভিক্ষুকের কাছ থেকেও টাকা খাওয়া লোকেরা যখন আমারে ভোট ভিক্ষুক বলতেছে, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম— এখন থেকে প্রতি শুক্রবার জুম্মার পরে ভিক্ষুকের পাশে দাঁড়িয়েই আমি ভোট চাইব। আর হারাম পয়সায় ভোট কেনার বদলে ভোট ভিক্ষা করেই আমি সংসদে হাজির হব, ইনশাআল্লাহ।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই পোস্টটি ভাইরাল হয়। ইতোমধ্যেই ৯৪ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন, সাড়ে ৮ হাজার মন্তব্য এবং প্রায় দুই হাজার শেয়ার হয়েছে পোস্টটিতে।
মন্তব্যে অনেকে লিখেছেন, “দেশের রাজনীতিতে এমন সাহসী ও সৎ মানুষ দরকার।”
শামিম শাম নামে এক ব্যবহারকারী লেখেন, “চমৎকার চিন্তা। তবে ভাই, বাংলাদেশে অনেকেই ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে যায় তার দায়িত্ব। আশা করি আপনি ব্যতিক্রম হবেন, দায়িত্ব পালন না করতে পারলে সসম্মানে সরে দাঁড়াবেন— তাহলেই মানুষ গর্ব করে বলবে, এই দেশেও একজন সৎ মানুষ আছে।”
রিফিক আদনান নামে এক মন্তব্যকারী লেখেন,
“আমরা চাই সংসদে তরুণ, সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীরা আসুক। আপনি আপনার মতো কাজ করে যান— সাধারণ মানুষ আপনার সঙ্গে আছে, ইনশাআল্লাহ।”
রাজনীতিতে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাওয়া তরুণ প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির এই ঘোষণা এখন আলোচনার কেন্দ্রে— যেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাজনীতি নয়, নীতি দিয়েই মানুষের আস্থা অর্জন করবেন।