চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেছেন, “বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীনতা ও সাহসী নেতৃত্ব আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তার আদর্শেই আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর মুগ্ধ স্কয়ারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র–জনতা সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন। সমাবেশে পৌঁছালে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় থেকে হাজারো ছাত্র–যুবক মোটরসাইকেল বহর ও মিছিল নিয়ে মীর স্নিগ্ধকে বরণ করে নেন।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি বলেন, “পুণ্যভূমি শিবগঞ্জের মহাস্থানগড় থেকে আমার প্রথম রাজনৈতিক বক্তৃতা দিতে পারছি— এটা আমার জীবনের গর্বের মুহূর্ত।” আবেগভরা কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “খুনি হাসিনা আমার ভাইসহ দুই হাজার ভাইবোনকে হত্যা করেছে, আহত করেছে বিশ হাজার মানুষকে। বিএনপিই সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের শেষ আশ্রয়।”
মীর স্নিগ্ধ বলেন, “ছোটবেলা থেকে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আজ তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য। জুলাই যোদ্ধাসহ সারা দেশের তরুণ–যুবকদের একত্রিত করে আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চিরতরে বিলুপ্ত করব। এবার আমাদের সংগ্রাম স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, “বিএনপি আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শক্তি। শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধর বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে সেই শক্তি আরও সংহত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের উত্তরসূরি এই তরুণ নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করবে।”
সভায় উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন। পুরো শিবগঞ্জ এলাকা “খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ” ও “স্নিগ্ধ ভাই এগিয়ে চলো” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
মীর স্নিগ্ধ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিশোধ নয়, পরিবর্তন। এই দেশের মানুষকে ভয় থেকে মুক্ত করা, ন্যায়ের সমাজ গঠন করাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।”