ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো ওয়াপদার মোড় এলাকা। বিকেল ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে ওয়াপদা মোড়ের পাশে হারুণ শপিং কমপ্লেক্সে বিএনপির একটি পক্ষের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অন্তত ১০টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি আশপাশের দোকানগুলোতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়, এতে আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পালিয়ে যান।
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু। দুজনই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি এ আসনে মনোনয়ন স্থগিত রেখেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ৩টার দিকে শামসুদ্দীন মিয়ার সমর্থকরা ওয়াপদার মোড় এলাকায় জড়ো হন, আর নাসিরুলের সমর্থকরা এক কিলোমিটার দূরে কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ মোড়ে সমবেত হতে থাকেন। বিকেল ৪টার দিকে উভয় পক্ষ মিছিল নিয়ে মুখোমুখি হয়। বোয়ালমারী পৌরসভার সামনে তারা একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় নাসিরুলের সমর্থকরা প্রাধান্য পেয়ে শামসুদ্দীনের সমর্থকদের পিছু হটায়। পিছু হটে শামসুদ্দীনের অনুসারীরা হারুণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেয়।
সংঘর্ষ থামাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টানা সংঘর্ষ চলে। এ সময় দমকল বাহিনীর একটি গাড়ি আগুন নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়।
শামসুদ্দীন মিয়া অভিযোগ করে বলেন,
“প্রশাসনকে জানিয়ে আমরা ওয়াপদা মোড়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছিলাম। তখন নাসিরুলের লোকজন আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা আমার কার্যালয়ে ও মোটরসাইকেলে আগুন দেয়, খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় আমার ১৫ জন সমর্থক আহত হয়েছে।”
অন্যদিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম দাবি করেন,
“আমি তখন মধুখালীতে ছিলাম। আমাদের লোকজনের ওপরই আগে হামলা করা হয়। একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ওরা শপিং কমপ্লেক্সের ওপরে উঠে ইট ছুড়তে শুরু করে, এতে কয়েকজন আহত হয়। জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা হামলা চালায়।”
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে দমকল বাহিনী পুনরায় এসে আগুন নেভায়। তবে সেনাবাহিনী উপস্থিত থাকার পরও এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে।
বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন,
“বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”