জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আর সময়ের ব্যাপার মাত্র, এটি যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যকর হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জুলাই সনদে কোনো নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) থাকবে না—এর আদেশ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেই দিতে হবে।”
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ) আত্মপ্রকাশ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জুলাই সনদের পথে রয়েছি এবং এই পথই নতুন বাংলাদেশের পথ। সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা খাত দলীয়করণে জর্জরিত ছিল। শিক্ষকদের পদোন্নতি ও নিয়োগ দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো টিকে আছে। ব্যক্তি ও সমাজের চিন্তার পরিবর্তন ছাড়া ফ্যাসিবাদ নির্মূল সম্ভব নয়।”
বেকারত্ব সমস্যার সমাধান নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল থেকে সংস্কার করতে না পারি, তাহলে রাষ্ট্রের কোনো স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। সরকার শিক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সেই অসমাপ্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”
জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “ছাত্র-শিক্ষকদের ঐক্যের মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শিক্ষকদের অবদান ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, যিনি ইউটিএফ-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চাই। শিক্ষা সংস্কারই রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে।”
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম (ইউটিএফ)’, যা এনসিপি-পন্থী শিক্ষকদের একটি নতুন সংগঠন হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রে ঐক্য, দায়বদ্ধতা ও সামাজিক ভূমিকা পুনঃনির্ধারণে কাজ করবে। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব ড. শামীম হামিদী।