বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–কে অবজ্ঞা করলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতি ও সরকারের ভবিষ্যৎ দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে যশোরে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের স্মরণসভায় তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপিকে অবজ্ঞা করে কেউ টিকতে পারেনি, এবারও পারবে না। দেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে উপেক্ষা করার মানে হচ্ছে জনগণকে অবজ্ঞা করা।” তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্রের মূল চেতনার সঙ্গে অসঙ্গতভাবে আচরণ করছে এবং উপদেষ্টারা রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘হাতের খেলনা’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে—এটাই জনগণের দাবি। টালবাহানা না করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করুন, অন্যথায় সরকার ব্যর্থ প্রমাণিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশে এখন যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, তার জন্য দায়ী সরকার নিজেই। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন ছাড়া বিকল্প নেই।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়, তাহলে আন্দোলন আবারো রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে। বিএনপি শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিবর্তন চায়, কিন্তু প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামবে।”
সভায় উপস্থিত স্থানীয় নেতারা বলেন, বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। তারা দাবি করেন, দেশের জনগণ আবারও পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা চাই জনগণের ভোটে জনগণের সরকার। সেটি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন থামবে না।”