জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। তার ভাষায়, “শেখ হাসিনার ভূমিমন্ত্রীর ৩৬০টা বাড়ি কানাডায়।
একজন মানুষের শরীরে হাড় থাকে ২০৬টা, মরার পর যদি প্রতিটি হাড় একেক বাড়িতে কবর দেওয়া হয়, তবুও ১০০টা বাড়ি ফাঁকা থাকবে। এভাবেই জনগণের টাকায় গড়ে উঠেছে এসব প্রাসাদ।”
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক রাজনৈতিক সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সভায় স্থানীয় এনসিপি নেতা-কর্মী ও শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দুর্নীতি ও বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা প্রসঙ্গে তোপ দেগে সারজিস আলম বলেন, “জনগণের ঘাম ঝরানো টাকায় ক্ষমতাসীনরা বিদেশে রাজপ্রাসাদ বানিয়েছে। এখন সময় এসেছে এই লুটপাটের বিচার করার।”
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে একবার গণভোট হয়েছিল, আবার সামনে গণভোট হবে। যে নিয়ম-কানুনের কারণে শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছেন, সেই নিয়মগুলো বদলাতে হবে। এই জুলাই সনদই সেই কাঠামো, যা সরকারের ক্ষমতা ও জনগণের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে।”
তিনি বলেন, “আগামী কোনো সরকার যেন স্বৈরাচার না হতে পারে—এটাই জুলাই সনদের মূল দর্শন। আমরা যে দলেরই হই না কেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারই সবার আগে। দেশের চেয়ে কোনো দল বড় নয়।”
সভায় তিনি আহ্বান জানান, “গণভোটের দিন সবাই যেন জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন।” তিনি বলেন, “এই দেশের ১৮-২০ কোটি মানুষের অধিকারের চেয়ে কোনো দল, কোনো নেতার ব্যক্তিস্বার্থ বড় হতে পারে না।”
এসময় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় এনসিপি নেতৃবৃন্দ, যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করার প্রতিশ্রুতি দেন।