জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন,
“যারা নতুন করে রাজনীতি করতে চান, যারা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে চান— তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা প্রতিটি জেলা ও আসনে সৎ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব দেখতে চাই।”
তিনি ঘোষণা দেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপি প্রার্থী দেবে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন,
“আমরা সারাদেশে জুলাই সনদের পক্ষে জনমত তৈরি করেছি, বিচারের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছি। আমরা নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। শাপলা কলি মার্কায় ইনশাআল্লাহ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবো। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আপনার-আমার সবার দল।”
তিনি আরও বলেন,
“সারাদেশে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। এ মাসের মধ্যেই আমরা প্রার্থিতার তালিকা চূড়ান্ত করবো। শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিটি আসনে আমরা যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থী মনোনয়ন দেবো। জনগণের কাছ থেকে যে সাড়া ও সমর্থন আমরা পেয়েছি, তা আগামী নির্বাচনে আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করি।”
নিবন্ধন প্রাপ্তি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর অবশেষে আমরা নিবন্ধন পেয়েছি। এনসিপি এখন একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। শাপলা কলি প্রতীকে নিবন্ধন পাওয়ার পেছনে আমাদের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাদের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।”
তিনি জানান,
“গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রতিষ্ঠা করি। এরপর মার্চ মাসে নিবন্ধনের কাজ শুরু করি এবং জুনে নির্বাচন কমিশনে কাগজপত্র জমা দেই। তবে কমিশন দীর্ঘদিন আমাদের প্রতীক অনুমোদনে বিলম্ব করে। অবশেষে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা শাপলা কলি প্রতীকে নিবন্ধন লাভ করি।”
নাহিদ ইসলাম বলেন,
“নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সারাদেশে আমাদের সংগঠন, অফিস, কমিটি এবং নেতাকর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ইসি নিশ্চিত হয় যে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল। দেড় মাস আগে আমরা জানতে পারি নিবন্ধন পেতে যাচ্ছি, তবে প্রতীক আটকে ছিল। এখন সেই প্রতীকও পেয়ে আমরা আনন্দিত।”
শেষে তিনি বলেন,
“যারা নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আমাদের সহযোগিতা করেছেন, যারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন— তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা জুলাই পদযাত্রায় মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছি, জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি। সেই ভালোবাসাই আমাদের শক্তি।”