১৬ বছর ধরে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মুখেও বিএনপির অস্তিত্ব নষ্ট করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খায়রুল কবির খোকন বলেন, “দেশের ক্রান্তিকালে এক ব্যক্তি দুইবার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা বিশ্বে বিরল। সেই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, আর দেশ পুনর্গঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশপ্রেমের পরীক্ষায় তিনি ৯৯ নয়, ১০০ নম্বর পাবেন।”
তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি যুদ্ধের সময় নেতৃত্ব না দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সে স্বাধীনতার পর জাতীয় সরকার নয়, দলীয় সরকার গঠন করে দেশের ওপর একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত দেশে বাকশাল কায়েম করে দুঃশাসনের রাজত্ব চালু হয়, মানুষ তখন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ছিল।”
বিএনপি নেতা আরও বলেন, “জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর অনেকে বলেছিল— বিএনপি নামক কোনো দল টিকবে না। কিন্তু তার জানাজায় লাখো মানুষ উপস্থিত ছিল, কারণ তিনি চক্রান্ত করে নয়, সিপাহি-জনতার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তার হাত ধরেই শুরু হয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ। গার্মেন্টস শিল্প, জনশক্তি রপ্তানি— সবই তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।”
খায়রুল কবির খোকন অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবুও বিএনপি হার মানেনি, কারণ বিএনপি হলো ফিনিক্স পাখি— প্রতিবারই ছাই থেকে নতুন করে জেগে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে আমাদের যে ঐক্য ছিল, তাতে কিছু বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আশা করি তা কেটে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কারণ শেষ পর্যন্ত জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই চায়।”