আগামীর বাংলাদেশ ও জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হলে নির্বাচনী জোট (অ্যালায়েন্স) গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর একটি হোটেলে বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।
সারজিস আলম বলেন, “যদি কোনো রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচারিক সংস্কার ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতায় আমাদের সঙ্গে একমত হয়, তাহলে জনগণের স্বার্থে অ্যালায়েন্স হতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন করবে এনসিপি। তাদের লক্ষ্য ৩০০ আসনেই শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়া। তিনি বলেন, “আমরা মাঠে নেমেছি জনগণের সমর্থন নিয়ে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো খুনি ও ফ্যাসিস্ট দোসরদের এখন আর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নেই।”
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, “আমাদের শাপলা প্রতীক দিতে গিয়ে ইসি স্বেচ্ছাচারিতা করেছে। শাপলা না দিয়ে দিয়েছে ‘শাপলা কলি’। তবুও আমরা এই প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে যাচ্ছি। যদি ভবিষ্যতেও এমন আচরণ চলে, তাহলে কমিশনের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা পরিবর্তনের রাজনীতি করছি। বাংলাদেশকে স্বাধীনচেতা ও ন্যায়ের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কোনো দল যদি সেই আদর্শে একমত হয়, তাহলে একসঙ্গে কাজ করার পথ খোলা।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।