জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন,
“দলের প্রধান কে হবেন, তা দলের নেতাকর্মীরাই নির্ধারণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান হতে পারবেন না—এমন বিধান মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন,
“বিএনপি জুলাই সনদের যেসব প্রস্তাবনা নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ভারসাম্য নষ্ট হবে।”
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছির।
তিনি লেখেন,
“অনেকে জুলাই সনদে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টের বিরোধিতা করছেন। তারা বোঝাতে চাইছেন, বিএনপি নাকি ক্ষমতার ভারসাম্য চায় না। কিন্তু বাস্তবে জুলাই সনদের ওই প্রস্তাবনাগুলোই নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য ধ্বংস করবে। এতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে রাষ্ট্র চালাতে হবে বিরোধী দলের নির্দেশে, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।”
উদাহরণ টেনে নাছির উদ্দীন বলেন,
“প্রস্তাবিত জুলাই সনদে বলা হয়েছে, পিএসসি নিয়োগ কমিটিতে তিনজন বিরোধী দলের ও দুইজন সরকারি দলের সদস্য থাকবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ কমিটিতে একজন সরকারি দলের এবং তিনজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকবেন। ন্যায়পাল নিয়োগে দুইজন সরকারি দলের ও তিনজন বিরোধী দলের সঙ্গে দুইজন নিরপেক্ষ সদস্য থাকবেন। মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগেও সরকারি দলের দুইজন ও বিরোধী দলের পাঁচজন প্রতিনিধি প্রস্তাব করা হয়েছে।”
তিনি বলেন,
“সব ক্ষেত্রেই সরকারি দলের প্রতিনিধিরা সংখ্যালঘু থাকবে, ফলে বিরোধী দল ও টেকনোক্র্যাট সদস্যরা প্রভাব বিস্তার করবে। এ অবস্থায় একটি নির্বাচিত সরকারের পক্ষে কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

ছাত্রদল নেতা আরও বলেন,
“বিএনপি এসব প্রস্তাবনায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে কারণ, এগুলো মানলে নির্বাচিত সরকার কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বে। বিরোধী দল তখন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া সরকার তার নিজস্ব পলিসি কার্যকর করতে পারবে না, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে অকার্যকর করে তুলবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট কোনো বিভ্রান্তি নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে দেওয়া হয়েছে।”