গণভোট ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানকে তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন,
“ইউনূস সরকারের আমলে যে পরিমাণ চাঁদাবাজি হয়েছে, তাতে এক হাজার বার গণভোট করা সম্ভব।”
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. তাহের বলেন,
“গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন এক নয়, দুটির চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিএনপি যদি গণভোটের বিরোধিতা করে, তাহলে জনগণের ৮০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-তে পড়বে, বিএনপির পক্ষে থাকবে মাত্র ২০ শতাংশ। এই কারণেই তারা ভয় পাচ্ছে, গণভোটে পরাজয়ের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে।”
রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন,
“নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া বিশ্বের কোথাও গণভোটের ইতিহাস নেই। দেশের প্রয়োজনেই বিএনপির গণভোটের পক্ষে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু তারা দ্বিমত করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন,
“সরকার একধরনের কম্প্রোমাইজের চেষ্টা করছে। নির্বাচন কোনো হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি নয়। বিএনপি সংস্কারের শুরু থেকেই অনীহা দেখিয়েছে, এখন সেই অনীহা গণভোট বিরোধিতায় পরিণত হয়েছে। এতে শুধু ঐকমত্য নষ্ট হচ্ছে না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
১৯৯১ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ড. তাহের বলেন,
“১৯৯১ সালের আগে যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হতো, তাহলে বিএনপি কীভাবে ক্ষমতায় আসত? বিএনপির নেতারা এখন যেসব কথা বলছেন, সেগুলো সত্য হলে বিএনপির অস্তিত্বই থাকত না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজ সেই বিএনপিই জামায়াতকে খোঁচা দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক অকৃতজ্ঞতার পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন,
“বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ গ্রহণ করে, তাহলে সেটা রাজনৈতিক সততার অভাব। জামায়াত কখনো মোনাফিকি করে না। আমরা ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন চাই এবং প্রস্তুতও আছি। মানুষ সমঝোতা চায়, সংঘাত নয়। যদি ঐকমত্য না হয়, তাহলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে।”
দেশের চারটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, “গণভোটে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করতে চায় না। তারা জনগণের রায়ের ভয় পাচ্ছে।”