‘জুলাইয়ের সার্টিফিকেট যদি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে নিতে হয়, তাহলে আমাদের বিষ খেয়ে মরে যাওয়া ভালো’—এমন কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এনসিপির জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “২৪-পরবর্তী সংস্কারের পক্ষে যে দল থাকবে, এনসিপি তাদের সঙ্গেই আগামী নির্বাচনে জোট গঠন করবে। যারা প্রকৃত অর্থে সংস্কারের পক্ষে কাজ করবে, আমরা তাদের সঙ্গেই একত্রে মাঠে নামব। তবে আগে দেখতে হবে—তারা সত্যিই সংস্কারের পক্ষে আছে কি না, নাকি মুখে মুখে সংস্কারের কথা বলে।”
তিনি বলেন, “জুলাই সনদের সার্টিফিকেট যদি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নিতে হয়, তাহলে আমরা সেই সনদের মর্যাদা হারাবো। আমরা সেই অপমানের অংশীদার হতে চাই না। দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য—কোনো ক্ষমতার সনদ সংগ্রহের জন্য নয়।”
সভায় হাসনাত আরও বলেন, “আজকের এ সমন্বয় সভার উদ্দেশ্য হলো জেলা পর্যায়ে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও নিবিড় করা। সংগঠনকে জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করাই আমাদের অঙ্গীকার।”
সভায় নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কমিটিগুলোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে এবং মাঠ পর্যায়ে দলীয় উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হবে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম তুহিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও পটুয়াখালী জেলার প্রধান সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম মুসা।
বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এনসিপিকে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো সময়ের দাবি। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর কমিটি গঠন, মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম চালু রাখা এবং ঐক্য রক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
তারা বলেন, এনসিপি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাস্তবমুখী সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে কাজ করছে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও জনগণের শক্তিই হবে দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
সভায় কয়েকশ নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে আলোচনা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত রাজনৈতিক মিলনমেলায়। নেতারা দলীয় ঐক্য বজায় রেখে জনগণের আন্দোলনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং “সংস্কারই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ” এই শ্লোগানে সভাস্থল মুখরিত হয়।