ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, অতীতে যে প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে দেশে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল, বিএনপি সেই কাঠামো টিকিয়ে রাখতে চায়। তাই তারা জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে মূলত সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাদিক কায়েম বলেন, “জুলাই সনদের যেসব ধারায় বিএনপি লিখিত আপত্তি জানিয়েছে, সেসবই দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মূল জায়গা। ফলে বিএনপি গণভোট মানতে নারাজ হয়ে জনগণের ক্ষমতায়নের পথ রুদ্ধ করতে চাইছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে উচ্চকক্ষে ‘প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR)’ ভিত্তিক আসনবণ্টনের প্রস্তাব, পিএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক ও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার প্রস্তাব—এই দুইটি মূল বিষয়ের বিরুদ্ধেই বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। একইভাবে ‘এক ব্যক্তি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান হতে পারবেন না’—এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় তাদের গণতন্ত্রবিরোধী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া, বিচারপতি, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও অডিটর জেনারেল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার প্রস্তাবেও বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে বলে তিনি জানান। এসব আপত্তিকে তিনি “ফ্যাসিবাদী কাঠামো টিকিয়ে রাখার প্রয়াস” হিসেবে অভিহিত করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, “জুলাইকে স্বীকৃতি দিতে না চাওয়া মানে হলো পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদী কাঠামো টিকিয়ে রাখা এবং জুলাই গণহত্যার বৈধতা দেওয়া। খুনি হাসিনার ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট কাঠামো বয়ে বেড়ানো মানে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নকে হত্যা করা।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ কোনো রাজনৈতিক দলকে দেশের মালিক বানানোর জন্য জীবন দেয়নি। জুলাই প্রজন্মের ত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে যারা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে বাধা হবে, তারা জনগণের প্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।”
সাদিক কায়েমের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ কৌশল নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনাও।