ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, বিএনপির আমলে দেশ তিনবার এবং আওয়ামী লীগের সময়েও একাধিকবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও বাংলাদেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং দুর্নীতি ও অবিচারের সংস্কৃতি এখন জাতীয় জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে।”
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, “এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। কিন্তু কোনো সরকারই সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বরং দেশটি বহুবার বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলই জনগণের সম্পদ লুট করেছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। এ সময় তিনি বলেন, “যে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট ও অবিচার নিত্যদিনের বাস্তবতা, সে দেশে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।”
রেজাউল করিম আরও বলেন, “জাতীয় সনদের ভিত্তিতে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সবার জন্য সমান রাজনৈতিক সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না করলে নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়বে।”
তিনি দাবি করেন, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে, যাতে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, জেলা সেক্রেটারি, যুব আন্দোলনের নেতারা এবং কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা।
বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়—একটি ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়েই সেই পরিবর্তন সম্ভব।