বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে এ দেশে আর ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেওয়া হবে না।” তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই শেখ হাসিনা ১/১১-এর কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন, যা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপন করে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্রশিবির আয়োজিত পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, যিনি বলেন— “২৮ অক্টোবর ছিল একদিকে বেদনার দিন, অন্যদিকে প্রেরণারও দিন। সেদিন শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় নেমে ছয়জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাকে ১ নম্বর আসামি করে মামলা করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।”
প্রধান বক্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার মাত্র চার বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের চার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অসংখ্য ভাইকে হত্যা করে গুম করা হয়েছে, অনেক পরিবার আজও লাশ পায়নি। সেই জুলুমের পরও আমরা হাল ছাড়িনি—আল্লাহর রহমতে আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছি।”
তিনি সরকারের প্রতি দুটি দাবি জানান— ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পুনরায় চালু করে দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করা, এবং সেদিন নিহত ১৮ জনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের স্বীকৃতি প্রদান ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামসহ শহীদ পরিবার ও নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান শেষে নেতারা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।