ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “পৃথিবীতে অনেকে জ্ঞান অর্জন করে, কিন্তু উপলব্ধি করতে পারে না। জ্ঞানকে দুনিয়াবি ও পরকালীন ভাগে না ভাগ করে উপকারী ও অপকারী হিসেবে দেখা উচিত।”
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘কবি মতিউর রহমান মল্লিক মেরিট অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা সাধারণত দেখি, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করে থাকে। কিন্তু ছাত্রশিবির সবসময়ই মেধা ও নৈতিকতার বিকাশে এগিয়ে আসে। যারা আজ পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের সবার প্রতি অভিনন্দন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তোমরা ভালো রেজাল্ট করেছো—এটা গর্বের বিষয়।”
অহংকারকে পতনের মূল কারণ উল্লেখ করে শিবির সভাপতি বলেন, “শয়তান অহংকার করেছিল, সামুদ জাতি অট্টালিকা বানিয়েছিল, ফেরাউন-নমরুদ ছিল সম্পদের মালিক। কিন্তু তাদের অহংকারই তাদের পতন ডেকে আনে। তাই তোমরা কখনো অহংকার করবে না, বরং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করবে—তাহলেই আল্লাহ আরও বরকত দিবেন।”
তিনি বলেন, “পশ্চিমারা মানবতার কথা বললেও তারা ভোগবাদে বিশ্বাসী। তারাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল, হিরোশিমা-নাগাসাকিতে বোমা বর্ষণ করেছিল। আজ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সঠিকভাবে গড়ে না ওঠায় সমাজে দুর্নীতি বেড়েছে। এই দুর্নীতির মূলেও রয়েছে শিক্ষিত শ্রেণি—রিকশাওয়ালা বা কৃষক নয়।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জবি শিবির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, পরিচালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল আলিম আরিফ। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, কৃষিবিদ গ্রুপের এমডি ড. আলী আফজাল, ইউটিএল সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. বিলাল হোসেন, প্রভোস্ট ড. আনজু মানে আরা, ড. আসাদুজ্জামান সাদি, ও বোটানি বিভাগের ড. শাখাওয়াত হোসেনসহ শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি উপহার হিসেবে দেওয়া হয় মগ, কলমদানি, কোরআন-সিরাত গ্রন্থ, উত্তরীয়, নোটপ্যাড ও কলম। শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারেরও আয়োজন করা হয়।