ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তা বাতিল করা হবে—এমন ঘোষণা চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এ দাবি জানান। বৈঠকটি আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলো।
‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রাজনৈতিক দলের কাছে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, এনসিপি, সিপিবি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
তাহের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে আমরা বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব দলকে আলোচনায় বসতে হবে। সরকার প্রতিশ্রুতি দেবে, রাজনৈতিক দলগুলো আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে না—এই ঘোষণা টেলিভিশনে প্রচার করতে হবে। এরপরও যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টা সেই নির্বাচন বাতিল করবেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ব্যর্থতার মূল কারণ বারবার অসুষ্ঠু নির্বাচন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন যেন স্বচ্ছ ও অবাধ হয়, সে দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
তাহের আরও বলেন, “যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে জয়ী যেই হোক—আমরা তার গলায় মালা পরাব। কিন্তু অন্যায় ও কারসাজির নির্বাচনে জনগণ নীরব থাকবে না।”
দেশে নেতৃত্বের সংকট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বহু পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা দুর্নীতি ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। সমাজে পচন ধরিয়েছে। এবার সেই ধারার পরিবর্তন চাই।”
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই পরিবর্তনের ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ছিল কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুর। অথচ আজ তাদের অবহেলা করা হচ্ছে, যা অন্যায়।”
জামায়াত নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দুর্নীতি রোধ ও প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হবে—এবং সেখানেই জামায়াত মৌলিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে।