জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হলে সেটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামীম হায়দার বলেন, “যদি আওয়ামী লীগকে ভোটে না আনা যায়, জাতীয় পার্টিকেও বাদ দেওয়া হয়— তাহলে সেটি হবে দেশের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম ভোট। এমনকি ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়েও খারাপ হতে পারে।” তিনি বলেন, “যখন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হলো, তখন তাদের নাম উচ্চারণ করাও গর্হিত অপরাধ ছিল। তখনই আমরা বলেছিলাম— তাদের ব্যান করা ঠিক হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালে একতরফা ভোটের সময় আমি এবং জি এম কাদের স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, ওই সরকার টেকসই নয়। আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে হবে, কিন্তু কেউ তা শোনেনি। এখনো আমরা সেই অবস্থানে আছি— একতরফা ভোটের সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”
শামীম হায়দার মনে করেন, বর্তমানে গঠিত নতুন দলগুলো এখনো জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, “এনসিপি কিংবা গণঅধিকার পরিষদ কেউই জাতীয় দল হয়ে উঠতে পারেনি। ইসলামিক দলগুলোর মধ্যেও জামায়াত ছাড়া আর কেউ জাতীয় প্রভাব তৈরি করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে অনেক আন্দোলন হয়েছে, অনেক মানুষ প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু যদি বড় রাজনৈতিক অংশগুলোকে বাদ দিয়ে ভোট আয়োজন করা হয়, তাহলে সেই নির্বাচন কখনোই জনগণের স্বার্থে হবে না।”
জাতীয় পার্টির এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, “বিএনপি যদি এমন নির্বাচনে অংশ নেয় যেখানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি নেই, সেটি দেশের জন্য বিপজ্জনক হবে। কারণ, এই দুই দলকে ছাড়া জাতীয় রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব নয়।”