আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন,
“অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত উপদেষ্টাদের জেলে যাওয়া লাগতে পারে।” তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই, আর সেই ব্যর্থতার দায়ের শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনগণ এখন নির্বাচন কমিশনের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বেশি অনাস্থা প্রকাশ করছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ না থাকলে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর বিচারপ্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। এটি রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের জন্য বিপজ্জনক উদাহরণ তৈরি করছে। আইনের শাসন যদি প্রভাবশালীদের হাতে বন্দি হয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ আর কোনো ন্যায়বিচার পাবে না।”
অপরাধে জড়িত সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী কিংবা প্রভাবশালী যেই হোক না কেন, সবাইকে সমানভাবে আইনের মুখোমুখি হতে হবে উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন,
“কিন্তু আমরা দেখছি, কিছু প্রভাবশালী অপরাধীকে জেলে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এটা বৈষম্যমূলক এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী। এবি পার্টি জনগণের অধিকারের রাজনীতি করে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সম অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অপরাধীর পরিচয় নয়—অপরাধই হবে বিচারের মানদণ্ড।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“আমরা রাজনীতি করতে এসেছি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। যারা দুর্নীতিকে ঢাল বানিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তাদের সময় শেষ হয়ে আসছে। জনগণ এখন পরিবর্তন ও জবাবদিহি চায়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ না করলে আসন্ন নির্বাচনও বিতর্কিত হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, এবি পার্টি একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন চায়, যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবুর রহমান মাহবুব, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান এবং রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। মতবিনিময় সভায় রংপুর মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।