জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, জামায়াত আর আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দুটি দলের গঠনপ্রক্রিয়া, রাষ্ট্রচিন্তা এবং রাজনৈতিক কৌশল একই ধরনের।
আওয়ামী লীগ জামায়াতকে ব্যবহার করেছে, আবার জামায়াতও আওয়ামী লীগকে নিজের সুবিধায় কাজে লাগিয়েছে। তিনি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হবে।
তখন আওয়ামী লীগ দেশি-বিদেশি শক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে বাংলাদেশ ইসলামি চরমপন্থিদের হাতে চলে যাচ্ছে—এভাবেই তারা নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনবে।”
একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামান্তা বলেন, আওয়ামী লীগ জামায়াতকে কোণঠাসা করে তাদের আরও সংগঠিত হতে বাধ্য করেছে। এখন জামায়াত আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক ধরে রাখার চেষ্টা করছে, এমনকি আওয়ামী নেতাদেরও আশ্বস্ত করছে যে ক্ষমতায় গেলে তাদের ক্ষতি করবে না। সাভার অঞ্চলে জামায়াতপন্থি এক আইনজীবী আওয়ামী নেতাদের পক্ষে লড়ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামান্তা বলেন, “জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ—এই তিন দলই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি থেকে দূরে। কারণ তারা ক্ষমতার খেলায় নিজেদের অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে।” তিনি জানান, এনসিপি এই পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ নয়, নিজেদের জোট গঠনের মাধ্যমে অথবা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়।
নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, “বর্তমান ইসি পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ। মৃত ভোটারদের নাম পর্যন্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিকভাবে দুর্বল এ কমিশন কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে না।” তিনি বলেন, এনসিপি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে চায়, তবে আগে জানতে হবে রাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রস্তুতি কতটা যথাযথ।