গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশের রাজনীতির সামনের পরিস্থিতিকে নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটের বিনিময়ে যারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন, তারা ভুল করছেন এবং এমন জনমফলে কখনওই ক্ষমার দাবি পূরণ হবে না বলে কটাক্ষ করেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে রাশেদ খাঁন স্পষ্ট করে লেখেন যে, ক্ষমতায় ফেরার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতে মৌলিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তার ভাষায়, সরকার ফেরানোর জন্য তাদের পরিকল্পনা ব্যক্তিগত বদলা-সহ এমন সব অপরাধমূলক কৌশল জড়িয়ে আছে যা দেশে হরতাল, অগ্নিসংযোগ ও গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা ঘটাবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, যদি তারা ফেব্রুয়ারিতে ভোটবাণচাল্য করতে সফল হয়, তাহলে দেশে একটি পুনরাবৃত্তির মতো পরিস্থিতি সৃজিত হবে,
“বাংলাদেশে আরেকটি ১/১১ ছাড়া আর কোনোভাবে আওয়ামী লীগের ফেরার সুযোগ নেই।”
রাশেদ খাঁন আরও জানান,
“শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ অগ্নিসংযোগের পথ বেছে নিয়েছে। সামনে তারা গুপ্তহত্যা শুরু করবে।”
তিনি বলেন, এ বিপজ্জনক পরিকল্পনা রোধে সংগঠিত প্রতিরোধই একমাত্র সমাধান। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন যে, বিভক্ত হয়ে থাকলে সহজেই ফেরানো যাবে দেশের ভেতর থেকে কোনো শক্তিকে, যা তৃতীয় পক্ষের আধিপত্য বাড়াবে।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে বিশেষভাবে সনাক্ত করে বলেছেন যে, ভোটের রাজনীতি মাথায় রেখে যারা ইতিহাসকে উপেক্ষা করে ক্ষমা প্রার্থনা করে অথবা ক্ষমতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে, তাদেরকে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসে তাদের তদবির বা পাপচিহ্নে কোন রেহাই মিলবে না। তার কথায়,
“ভোটের রাজনীতির চিন্তা করে যারা আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিচ্ছেন, তারা আওয়ামী লীগ ফিরলে হাসিনার পা ধরেও মাফ পাবেন না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশেদ খাঁনের এই বিবৃতি বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের কাছে একটি শক্তিশালী সংগঠিত প্রতিবাদের আহ্বান হিসেবে বোধ করা যেতে পারে। তাদের মতে, যদি এই ধরনের সতর্কবার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে গৃহীত হয় এবং বাস্তব কর্মসূচিতে রূপান্তরিত হয়, তাহলে তা সমগ্র রাজনীতির গতিপথকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, এমন ভাষা উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বিনিময়ে গৃহীত পদক্ষেপকেও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্ট দেশের নাগরিক সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি শেষাংশে আবারও নাগরিকদের একজোট থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা সময়ের দাবি এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তিকে সুযোগ করে দেয়া যাবে না। তাঁর এই কল দেশজুড়ে রাজনৈতিক ঝটিকা তৈরি করেছে এবং আগামী সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলন পরিচালনার কৌশলকেই নতুন ভাবনায় প্ররোচিত করছে।