জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে তা ‘গণপ্রতারণা ও জাতির সঙ্গে প্রহসন’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘প্রতীক নন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কোনো সাংবিধানিক আদেশ জনগণের কাছে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসই কেবল জুলাই সনদকে আইনি বৈধতা দিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি না পেলে এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা, এটি গণপ্রতারণা ও জাতির সঙ্গে প্রহসন হবে। সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেবল ঐকমত্য নয়, সাংবিধানিক বৈধতা অপরিহার্য। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে, জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তবেই এই উদ্যোগ অর্থবহ হবে, নইলে এটি গণপ্রতারণা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
’তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট থেকে কোনো সাংবিধানিক আদেশ এলে তা জনগণের কাছে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। এই সনদকে আইনি বৈধতা দিতে পারেন কেবল সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র জনতার আহ্বানে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা চাই না ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মতো আবারও জনগণের আকাক্সক্ষাকে প্রতারিত করা হোক। এই সংস্কারের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
এনসিপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনুষ্ঠানে যাইনি, কারণ আমাদের অবস্থান অন্য দলগুলোর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের লড়াই শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নয় এটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন।’
ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা কমিশনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করি, কিন্তু তারা অনেক সময় দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেননি। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা অসমাপ্ত রয়ে গেছে।’
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে নির্বাচনি প্রতীক নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। শাপলা প্রতীক নিয়ে আমাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দিলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব। ইসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তারা আইনি ব্যাখ্যা না দিয়ে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদকে ক্ষমা চাইতে হবে ॥ ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ নিয়ে বক্তব্যের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন সাহেব (সালাহউদ্দিন আহমদ) উনি শুক্রবারের ঘটনায় জুলাই যোদ্ধা, যারা পুলিশের হামলায় আহত হয়েছে, তাদের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি ভুলবশত, হয়তো তাঁর কাছে তথ্য না থাকার কারণে এ রকমটা বলেছেন। যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না। যেহেতু তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশে ছিলেন না, রাজপথে ছিলেন না। সেহেতু হয়তো তিনি জানেন না যে কে রাজপথে ছিল, কারা লড়াই করেছিল, কারা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল?’
পুলিশের হামলায় আহত ব্যক্তিদের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়তার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘আতিকুল গাজী (আতিকুল ইসলাম) যার হাত কাটা গিয়েছে, তাকে যখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বলা হয়, যখন শহীদ মীর মুগ্ধের বাবাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বলা হয়, ইয়ামিনের বাবাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বলা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের, খুবই বেদনাদায়ক।
’এছাড়া সংবাদ সম্মেলন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়া, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ এবং ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তে অস্পষ্টতা এই তিনটি কারণ দেখিয়ে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি।