জুলাই সনদের আইনি বৈধতাসহ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলনরত জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, “জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি। তারা আজকের মতো একটি ঐতিহাসিক দিনেও লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হয়েছেন—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
জুলাই সনদ ইস্যুতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নুর বলেন, প্রায় নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনা শেষে গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনরা একটি “জুলাই জাতীয় সনদ” প্রণয়ন করেছেন, যা জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতেই গৃহীত হয়েছে।
তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সবার অভিন্ন মত ছিল—এই সনদ যেন আর কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা দাবির মতো উপেক্ষিত না থাকে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদকে কার্যকর করতে এর একটি আইনি ভিত্তি দেওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী নেতারা, আহত ও শহীদ পরিবারেরা যেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান। নুরের মতে, সনদের শুরুতে শহীদ পরিবার, আহতদের স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সুরক্ষা বিষয়ে অস্পষ্টতা ছিল, যা পরবর্তীতে সরকারের সংশোধনের মাধ্যমে কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি উল্লেখ করেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিছু বিক্ষুব্ধ জুলাইযোদ্ধা অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।” তবে তিনি বলেন, এই ঘটনাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যার ফলে শেষ মুহূর্তে জুলাই সনদে সংশোধনী আনা হয়েছে।
নুরুল হক নুরের এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও পরিষ্কার করা দরকার, যাতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি না থাকে।