পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী শামীম সাঈদী বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি একদমই অল্প খরচে ও ন্যায্য ভোটচালনার দাবি সমর্থন করে; তাই তারা পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চাচ্ছে যাতে নির্বাচনের অর্থ ও সম্পদ অপব্যবহারের সুযোগ কমে এবং সবাই সমান অধিকার পেয়ে ভোট দিতে পারে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে শহরের টাউন ক্লাব রোডে জেলা শাখার আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
মোঃ রবিউল আলম, পিরোজপুর থেকে জানান — শামীম সাঈদী বলেন, “পিআর পদ্ধতি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে সহায়ক; এতে প্রতিটি দল—ছোট-বড়—ন্যায্যভাবে প্রতিনিধিত্ব পাবে। আমরা টাকা-পয়সার অপব্যবহার বাড়িয়ে নির্বাচন চালাতে চাই না; বরং সীমিত সম্পদে সুষ্ঠু ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতি দাবী করছি।”
তিনি আরও জানান, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি; শাসকগোষ্ঠী বারবার শোষণ ও নিপীড়ন করেছে—এই ব্যর্থতার নিরিখে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিণতিকে তুলে ধরেন শামীম।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসন পালিয়ে যায়—এখন সামনে নির্বাচন আসছে, তাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে; আমরা পিআর চাই ভোটকে উন্মুক্ত ও সাশ্রয়ী রাখতে।”
শামীম সাঈদী দাবি করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি দেশব্যাপী ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সক্ষমতা রাখে এবং প্রার্থী তালিকাও দীর্ঘক্ষণ আগে থেকেই প্রস্তুত রেখেছে; তবুও বস্তুগতভাবে তিনি বলেন, পিআর প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো সকল নিবন্ধিত দলগুলোকে সমানভাবে অংশগ্রহন এবং মতামত পেশ করার সুযোগ নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে জেলার অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন—জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব’র সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি জহিরুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা পেশাজীবী শাখার সভাপতি ড. আব্দুল্লাহিল মাহমুদ প্রমুখ। তারা পুনরাবৃত্তি করেন, পিআর প্রয়োগ হলে নির্বাচনী খরচ হ্রাস পাবে, রাজনৈতিক সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং বহুত্ববাদী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন—পিআর নিয়ে রাজনৈতিক চেতনায় বড় ধরনের আলোচনা প্রয়োজন; আইনগত, প্রণয়নগত ও প্রশাসনিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় তা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।