রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ২৮৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বেঞ্চ। অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি—যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একটি ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ জুম বৈঠক, যেখানে দেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পরিকল্পনা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের আহ্বান দেয়া হয় বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
সিআইডির ফরেনসিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণকারীরা গৃহযুদ্ধ উসকানি, বৈধ অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আনা সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছেন—এইসব তথ্য পুলিশের সদর দফতর থেকে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হলে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডিকে তদন্ত ও অভিযোগ দায়েরের অনুমতি দেন। এর পর ২৭ মার্চ রমনা থানায় সিআর মামলা নং-২২২/২০২৫ দায়ের করা হয়; অভিযোগের ধারাসমূহ হলো দণ্ডবিধির ১২১, ১২১(ক) ও ১২৪(ক)।
পাঁচ মাসের তদন্ত শেষে সিআইডি গতকাল অভিযোগপত্র দাখিল করে, এবং আদালত শুনানিতে অধিকাংশ আসামি অনুপস্থিত থাকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরেনসিক প্রমাণে পলাতক হাসিনা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সংশ্লিষ্টতার তথ্য লক্ষ্যযোগ্য। এছাড়া দেশীয় কারাগারে থাকা ৯১ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে; বাকিরা পলাতক রয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, মামলাটি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিচার ও দায়বদ্ধতা’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক এবং বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত রচনা করতে পারে—তবে মামলাটির প্রসেস ও প্রমাণাদি নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। ন্যায়িক প্রক্রিয়া অনুসারে সকল প্রয়োজনীয় বিধি মেনে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।