স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের সন্তুষ্টির পরিমাপে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এরপর রয়েছে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আর শেষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিং পরিচালিত ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ শীর্ষক জরিপের দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্বে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, স্থানীয় রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি আস্থা ও সক্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছে।
ইনোভিশনের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা। অনেকটা সন্তুষ্ট ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মোটামুটি সন্তুষ্ট ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে একদমই সন্তুষ্ট নন ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থানীয় কার্যক্রম নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ৮ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা এবং অনেকটা সন্তুষ্ট ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। মোটামুটি সন্তুষ্ট ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ হলেও অসন্তুষ্টের হার সর্বোচ্চ—২৭ শতাংশ।
নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার, অনেকটা সন্তুষ্ট ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ, মোটামুটি সন্তুষ্ট ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্ট ১৭ শতাংশ।
ইনোভিশন কনসাল্টিং জানিয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটার, যার মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৬৩৯ জন এবং নারী ৪ হাজার ৭১৯ জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছে তা তাদের জনসম্পৃক্ততার সূচকে প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামেও বিএনপি মাঠপর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠনে এখনও পিছিয়ে আছে। নবগঠিত এনসিপি তুলনামূলকভাবে নতুন দল হলেও ভোটারদের একাংশের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।