বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা এখনো চলছে। কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাইছে, যেন মানুষ তাদের অতীত ভুলে যায়। তিনি বলেন,
“আমাদের মনে রাখতে হবে, একাত্তরের যুদ্ধ হয়েছিল বলেই আজ আমরা স্বাধীন। স্বাধীন হতে পেরেছিলাম বলেই নতুন রাষ্ট্রে নতুন চিন্তা করতে পারছি, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারছি।”
রোববার দুপুরে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনিরের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট।
মির্জা ফখরুল বলেন,
“আজকে কিছু দল ও লোক বিএনপিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে। হঠাৎ করেই তারা পিআর পদ্ধতি নিয়ে এসেছে, যার বিষয়ে জনগণ কিছুই বোঝে না। এই পদ্ধতি তারা আন্দোলনের নামে সামনে এনেছে, যার উদ্দেশ্য কেবল নির্বাচন বিলম্বিত করা এবং জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা।”
তিনি বলেন,
“এই দেশে কোনো চাপিয়ে দেওয়া পদ্ধতি মানুষ গ্রহণ করবে না। পিআর পদ্ধতিও গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বলেছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে— আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হতে দেখতে চাই। জনগণ নির্বাচন চায় এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন,
“আমরা গত ১৬-১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই ফ্যাসিস্ট শাসক পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে, এই সুযোগ যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“প্রতিদিন নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই দেশের মানুষ কখনো ভুল করে না, তারা সব সময় সঠিক পথেই এগিয়ে যায়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য কেবল বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করছে না, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পিআর পদ্ধতি নিয়ে ফখরুলের সমালোচনা আসলে সরকারের নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধেই এক ধরনের রাজনৈতিক পাল্টা অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।