বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক বলেছেন,
“আমরা আশা করি তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের শক্তিশালী করবেন।”
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি প্রচারের অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণের সময় তিনি এই বক্তব্য দেন।
এম এ মালিক বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলনে গত ১৫ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। আমাদের নেত্রীকে আওয়ামী লীগ হত্যার চেষ্টা করেছিল এবং মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠিয়েছিল। তিনি এখনো অসুস্থ আছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো গুম রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। দেশে কখনোই ভারতের তাঁবেদার সরকার আসবে না।”
বিএনপি নেতার ভাষায়, “বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে নাকি জাতীয় সরকার গঠন করবে, আমরা এক সঙ্গে রিফর্মেশন ডিল করতে চাই। ভবিষ্যতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“গত ১৫ বছরে ভারত আমাদের কাছ থেকে করিডোর, রামপাল, সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিয়েছে। শেষ মুহূর্তে দেশের বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। হাজার হাজার কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে; তাদের আত্মার সঙ্গে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না।”
তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে এম এ মালিক বলেন,
“অচিরেই তারেক রহমান নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশে আসবেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নির্বাচনের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে।” নিজের নির্বাচনী অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “দল যদি সিলেট-৩ আসনে আমাকে ধানের শীর্ষ উপহার দেয়, আমি নির্বাচন করব, ইনশাআল্লাহ। নির্বাচন করলে আমি জিতব।”
পিআর পদ্ধতির সমালোচনা করে মালিক বলেন,
“যারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, তাদের আমরা নিন্দা জানাই। পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এগোব। বর্তমানে পার্লামেন্টে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আগে নির্বাচন, তারপর সরকার।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তেতলি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজমল আলী, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, এবং বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন ও আব্দুল গফফার।