ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনটি অন্তত ১৬০টি আসনে বিজয়ী হবে বলে তাদের বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, অতীতের তুলনায় এবার অনেক বেশি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা এমন সমর্থন পাচ্ছেন যা আগে কখনো কল্পনাও করেননি।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে আয়োজিত খুলনা মহানগরী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, “আগে আমাদের সর্বোচ্চ ৫০টি আসনের সম্ভাবনা ছিল, এখন আলহামদুলিল্লাহ শিপমেন্ট অনেক বেশি হয়ে গেছে। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে আমরা অন্তত ১৬০টি আসন পাব।”
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বার্ধক্য আসার আগেই যৌবনকে কাজে লাগাতে হবে। প্রাক্তন দায়িত্বশীলদের জামায়াত নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নেতৃত্ব অনেক দূরদর্শিতা থেকে সিদ্ধান্ত নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক বিতর্কে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং গালির জবাব না দেওয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরী শিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি রাকিব হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরাও স্মৃতিচারণ করেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একসময় যেখানে সংগঠনের দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না, আজ সেখানে আল্লাহর কৃপায় তাদের প্যানেল গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অহংকার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের এটি ধরে রাখতে হবে এবং আল্লাহর উপর আস্থা রাখতে হবে।”
এ পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর বিভিন্ন বিভাগের সম্পাদক, সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারিরা, যারা সংগঠনের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের মূল স্লোগান ছিল— “সম্প্রীতির টানে শিকড়ের পানে”।