বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দেশের মানুষ গত ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি; আজ তারা ভোটের জন্য উন্মুখ।
তিনি বলেন, “পিআরের জন্য কিন্তু দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে না এবং পিআর করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কোনো ভিত্তি নেই। যারা পিআর নিয়ে দাবি করছেন, তাদের অনেকেই বলতে পারবেন না পিআর কী জিনিস।”
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চানপুর এলাকায় রামকৃষ্ণ আশ্রমে দুর্গাপূজার অষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত কুমারী পূজায় উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে কায়সার কামাল পিআর পদ্ধতির তুলনা দিয়ে বলেন, ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি—যেখান থেকেই সংসদীয় ব্যবস্থা এসেছে—সেখানেও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় না। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারতসহ উন্নত গণতন্ত্রচর্চা করা দেশগুলিতেও পিআর নির্বাচন পদ্ধতি প্রচলিত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কায়সার কামাল জামায়াতে ইসলামীকে টার্গেট করে বলেন, “পিআর নিয়ে তারা ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে; আমাদের তা প্রতিহত করতে হবে।” তিনি দেশপ্রেম ও ধর্মীয় সংহতি সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করে কুমারী পূজার ইতিহাস ব্যাখ্যা করেন—নারীকে মাতৃশক্তি হিসেবে সম্মান জানানোই এ আচার-অনুষ্ঠানের মূল ভাব।
তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ; প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস ও ধর্মীয় আচার পালন করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি অনুজ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক গোপেশ সরকার, কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ। কায়সার কামালের মন্তব্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ময়দানে নতুন আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।