পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ ৫ দফা দাবিতে ১২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দেশের এতগুলো রাজনৈতিক সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলোর মতো এই সরকারও জনতার দাবির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করছে।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের ইস্যুতে জামায়াত সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নিলেও স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যের পরও তার আইনি ভিত্তি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।
ড. ইউনূস বলেন, “ফ্যাসিবাদে জড়িতদের বিচারে ধীরগতি এবং জামিনের হার বাড়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আটককৃতদের ৭৩ শতাংশ জামিন পাচ্ছে। অথচ ফ্যাসিবাদের দোসররা মহাসমারোহে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির কোনো চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না, বরং সরকার নির্বাচনের আগেই ফলাফলের বার্তা দিচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতা মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী গণসংযোগ, গণমিছিল এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান।