বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে বলে তিনি আশা করছেন। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুদু অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ধ্বংসের সূচনা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। তিনি বলেন,
“একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা ভেঙে দেন মুজিব। ৭২ সালে ক্ষমতায় এসে ৭৩ সালের নির্বাচনে ইতিহাসের ভয়াবহ লুটপাট করেন। এমনকি খন্দকার মোস্তাক নির্বাচনে হেরে গেলেও ব্যালট ঢাকায় এনে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।”
তিনি আরও দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। “তিনি পাকিস্তানে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডাররা পালিয়ে যায় না, আত্মসমর্পণ করে না। অথচ আজও তার অনুসারীরা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের গল্প তৈরি করছে,” বলেন দুদু।
সাবেক এই সংসদ সদস্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, রণাঙ্গনে লড়াই করেছেন, স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথ দেখিয়েছেন। পরবর্তীতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া নয় বছরের আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালাচ্ছেন।”
দুদু সমালোচনা করে বলেন,
“যে রাজনৈতিক দলগুলো ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, তারা এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। অথচ আজ তারা ক্ষমতায় এলে কী করবে তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। প্রথমে তাদের উচিত জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করা।”
তিনি শেখ পরিবারকে অভিযুক্ত করে বলেন,
“এ পরিবার চোরদের পরিবার, ব্যাংক লুটের পরিবার, গণতন্ত্র হত্যাকারী পরিবার। আর জিয়া পরিবার হলো গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকারের পরিবার।”
তিনি আরও বলেন,
“জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি দিয়ে সংসদ গঠন করতে হবে। একমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই তা সম্ভব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্য কোনো পথ নেই।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ওলামা দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ কারী রফিকুল ইসলাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।