আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে পদত্যাগ করে আবারো জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন সাবেক সচিব এবং এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি সহযোগী সদস্য পদে ফরম পূরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হালিম।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সোলায়মান চৌধুরী বলেন, এবি পার্টি প্রতিশ্রুত লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক দলে পরিণত হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা হারিয়ে ফেলেছে দলটি, বরং বিভিন্ন জেলার নেতারা পদত্যাগ করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তাকে নামমাত্র উপদেষ্টা বানিয়ে রাখা হয়েছিল এবং দলের অঙ্গীকার বাস্তবে পরিণত হচ্ছে না। তাই সকল পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি পুনরায় জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সোলায়মান চৌধুরীর ভাষ্যমতে, “আমরা এবি পার্টি গড়েছিলাম জনগণের অধিকার রক্ষার ব্রত নিয়ে, কিন্তু দল সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। মানুষের সেবা করার পরিবর্তে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে ফিরে এসে দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে তিনি সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চান।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তিনি নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করেন। সেখানে আমির তাকে পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দেন। তবে সোলায়মান চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, এবি পার্টি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তিনি সাক্ষাতের আগেই নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দিয়ে সোলায়মান চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে তিনি দ্রুত নেতৃত্বের দায়িত্ব পান। সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জামায়াতের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ফেনীর জেলা প্রশাসক হিসেবে আলোচিত হন।
২০০৭ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি পুনরায় জামায়াতে ইসলামীতে সক্রিয় হন এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্যসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। ২০১৯ সালে জামায়াত ছাড়ার পর এবি পার্টির সঙ্গে যুক্ত হলেও শেষ পর্যন্ত আবার পুরনো দলে ফিরলেন তিনি।