বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সতর্ক করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো যদি জাতীয় নির্বাচনে ঘটে তবে তা দেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মিরপুরে বিএনপি নেতা কাজী আসাদুজ্জামানের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। রিজভী বলেন, ডাকসু নির্বাচনে নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার ছাপানোসহ নানা অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
একইভাবে জাকসু নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরই কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদলসহ কয়েকটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৬ বছর ধরে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আবার ভোটারবিহীন ভোটও হয়েছে। এসব অনিয়ম ও অনাচারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনকে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। যদি সেই একই ধারা অব্যাহত থাকে এবং পরিকল্পিতভাবে কাউকে বিজয়ী করার নীলনকশা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
রিজভী আরও বলেন, ডাকসু ও জাকসুর নির্বাচনে ব্যালট বই ও ব্যালট পেপার যথাযথভাবে নম্বরযুক্ত ছিল না। অনেক ভোটারকে সকালবেলায় হাতে সই করিয়ে ভোটার বানানো হয়েছে। অথচ এসব অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। বরং একপক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদিন নতুন নতুন অনিয়মের প্রমাণ বেরিয়ে আসছে। নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে চাপা দিতে চেয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। রিজভীর মতে, সমতল মাঠ ছাড়া কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অসমতল মাঠে নির্বাচন আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বক্তব্য দেন। তিনি প্রয়াত কাজী আসাদুজ্জামানের কর্মমুখর জীবন ও সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেন।