আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আবারও জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এবং শুক্রবার রাতে একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।
সোলায়মান চৌধুরী বলেন, এবি পার্টি ২০২০ সালের ২ মে আত্মপ্রকাশ করেছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের মূলনীতি নিয়ে, কিন্তু আজ আর সেই অঙ্গীকারের কিছুই অবশিষ্ট নেই। তার অভিযোগ, দলটি এখন কেবল ঢাকা-কেন্দ্রিক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে, যেখানে জনসম্পৃক্ততা ও তৃণমূল কার্যক্রম নেই। জেলা পর্যায়ের নেতারা একে একে দল ছাড়ছেন বলেও তিনি দাবি করেন। নিজের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে নামমাত্র উপদেষ্টা বানিয়ে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, তার উপদেশ নেয়া হয়নি। ফলে সরে যাওয়াই শ্রেয় মনে করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নতুন কোনো দলে যাচ্ছেন না বরং ফিরে যাচ্ছেন পুরনো রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীতে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং তিনি স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানান সোলায়মান। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি। তবে জামায়াতে ইসলামী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, তার পদত্যাগের কথা শুনেছেন, তবে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা দলে যোগদান প্রসঙ্গে নিশ্চিত করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, সোলায়মান চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু স্কুল জীবনেই; ১৯৬৪ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন, পরে ১৯৭৫ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হয়ে দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। ১৯৭৯ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন এবং সরকারি চাকরিতে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখেন। ফেনীর জেলা প্রশাসক থাকা অবস্থায় জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আলোচিত হন তিনি। পরে সংস্থাপনসচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৭ সালে অবসরের পর আবারও জামায়াতে ফিরে যান এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও জাতীয় পেশাজীবী ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০১৯ সালে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করে ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’-এ যোগ দেন, যা পরবর্তীতে এবি পার্টি নামে পরিচিত হয়। দীর্ঘ ঘুরপথ শেষে এবার তিনি ফের জামায়াতের ছায়াতলে ফিরছেন বলে ঘোষণা দিলেন।