বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসন টিকিয়ে রাখতে বারবার সহযোগিতা করেছে জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন। এ্যানির অভিযোগ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দুটি দল জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেদের আত্মস্বীকৃত জাতীয় বেইমান হিসেবে প্রমাণ করেছে।
সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “১৯৮৫ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াত ইসলামী আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু বিএনপির সঙ্গে নয়, পুরো জাতির সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এ দেশের রাজনীতিতে জামায়াত হচ্ছে আত্মস্বীকৃত জাতীয় বেইমান। আর ইসলামী আন্দোলন নামধারী দল আসলে ধর্মের নামে প্রতারণাকারী ভণ্ড। গত ১৭ বছর আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, কিন্তু তখন কোথাও ইসলামী আন্দোলনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দেওয়ার জন্য হাতপাখা প্রতীকধারীরা কাজ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, আজ আবারও ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত পীরের নামে রাজনীতি করে পরিস্থিতিকে গোলমাল করার চেষ্টা করছে। এ্যানির অভিযোগ, নির্বাচনী পরিবেশকে বিভ্রান্ত করার জন্য এরা ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠে নেমেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“এই ভণ্ডদের বিরুদ্ধে ঐক্যের বিকল্প নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে ইস্পাত দৃঢ় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, আগামী দিনে সেই ঐক্যই আমাদের গড়ে তুলতে হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে।”
সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির আহ্বায়ক মাইন উদ্দীন চৌধুরী রিয়াজের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, চট্টগ্রাম বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, ভিপি হারুন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দীন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা বিএনপির সদস্য নিজাম উদ্দীন ভূঁইয়া ও এডভোকেট হাফিজুর রহমান প্রমুখ।