ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দিন পরিকল্পিতভাবে তাকে মিডিয়া ট্রায়ালের মুখে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদ। সোমবার মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোটগ্রহণে নানা অনিয়ম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আবিদ বলেন, ভোটার শনাক্ত করতে যে মারকার পেন ব্যবহার করা হয়েছে তা অস্থায়ী হওয়ায় একই ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিয়েছে কি না তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ থেকে যায়। নির্বাচনের ব্যালট পেপার কোন প্রেসে ছাপা হয়েছে তাও গোপন রাখা হয়েছে। এসব অভিযোগ এত স্পষ্ট যে আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময় পর্যন্ত অসংগতির পাহাড় তৈরি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা আড়াল করার চেষ্টা করেছে। লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি নির্বাচনের দিন তাকে ব্যক্তিগতভাবে মিডিয়া ট্রায়ালের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
আবিদ আরও জানান, নির্বাচনের চার দিন পর প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বীকার করে যে পোলিং এজেন্ট বাছাই প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল এবং সময়মতো আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়নি। এ কারণে বহু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ছাড়া ভোট নেওয়া হয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন। ফলাফল ঘোষণার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভবিষ্যৎ ডাকসুকে ঘিরে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লেখেন,
“সমগ্র বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসব, ইনশাআল্লাহ। এর প্রতিফলন আপনারা পরবর্তী ডাকসুতে দেখতে পাবেন। আবিদ আপনাদের কখনো ছেড়ে যাবে না।”
নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র জীবনে এতদূর আসা তার জন্য ছিল অকল্পনীয়। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দীন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান। তখন কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। আবিদ বলেন,
“আসলে কখনোই জানতাম না নিজেকে কোথায় দেখতে হবে। একের পর এক আন্দোলন-সংগ্রাম এসেছে, নিজেকে রাজপথে সঁপে দিয়েছি। সেই পথই আজ আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।”