অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যতই এগোচ্ছে, দুর্নীতি ততই জেঁকে বসছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “দুর্নীতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল দুর্নীতি দমন করা হবে। কিন্তু সরকারের দিন যত পার হয়েছে, দুর্নীতি আরও বেড়েছে।”
শুক্রবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দলের সমন্বয় সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। দিনব্যাপী এই সভায় অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, অঙ্গসংগঠনের নেতা এবং জেলা-মহানগর-উপজেলা কমিটির সমন্বয়কারীরা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এনসিপি প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় আন্দোলন সংগঠিত করবে। তিনি আহ্বান জানান, জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, নতুন বন্দোবস্ত ও নতুন সংবিধান প্রতিষ্ঠার দাবিতে উপজেলাভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে দলের ২৪ দফা দাবিকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি তার নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগোবে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত হয়, তারা চাইলে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলামের মতে, তারা নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে, তবে উচ্চকক্ষে পিআর এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সভায় জাতীয় নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতির দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, ফ্যাসিবাদী প্রবণতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিটি স্তরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে এনসিপির।
এ সময় এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আখতার হোসেন, সামান্তা শারমীন, সারজিস আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।