সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক ঢেউ তুলেছে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচনের পর একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে, এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র পেছনে এতদিনের বিনিয়োগও অনেকে এখন ‘অপচয়’ হিসেবে দেখছেন।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন,
“ডাকসু ও জাকসুর ফল শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই। বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে একটি গোষ্ঠী এখন জামায়াতকে শক্তিশালী পার্টি হিসেবে দেখছে। ফলে কে আগে গিয়ে তাদের সঙ্গে অবস্থান নেবে, সেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“রাকসু নির্বাচন সামনে আসছে। তার পর এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। যারা এতদিন এনসিপির পেছনে বিনিয়োগ করেছে, তারা এখন মনে করছে, আসলে সেটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।”
রাজনীতির স্বার্থবাদী চরিত্র প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাওয়ারফুল পার্টির পেছনে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর ভিড় জমা কোনো নতুন ঘটনা নয়। অতীতে যেমন ক্ষমতার পালাবদলে হাওয়া ঘুরে গেছে, এবারও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে তিনি মনে করেন, ডাকসু বা জাকসুর ফল সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষায়,
“বাংলাদেশের প্রান্তিক ভোটাররা এসব বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তারা দেখে তাদের এলাকায় কোন দল কী করছে। সেখানে বিএনপি বা জামায়াত সংগঠন ও আন্দোলনে কেমন করছে, সেটিই প্রাধান্য পায়। এ কারণেই একেক জেলায় একেক রকম ফলাফল আসবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদ কামালের এই মন্তব্য শুধু এনসিপির সংকটকেই স্পষ্ট করে না, বরং বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের অনুষঙ্গ কীভাবে বড় শক্তিগুলোর গতিপথ নির্ধারণ করছে, সেটিও সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোট হোক বা জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান বদলাতে দ্বিধা করে না—এই বাস্তবতা আবারও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।