ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, জনগণ যদি পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের পক্ষে না থাকে, তাহলে তাদের দলও এ দাবি করবে না। তবে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট বা রেফারেন্ডাম আয়োজন করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছলপূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ফয়জুল করীম বলেন, “যদি জনগণ পিআর সিস্টেম নির্বাচন না চায়, তাহলে আমরা দাবি করবো না। কিন্তু যদি জনগণ পিআর নির্বাচন চায়, তাহলে সরকার বাধ্য হবে তা মেনে নিতে।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ভারতীয় প্রভাবের কারণে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে গড়িমসি করছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল নির্বাচনের জন্য বসেনি। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে নিয়েই তাদের দায়িত্ব শুরু হয়েছে। তাই সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না করে শুধু নির্বাচন আয়োজন করলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে—সে প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম স্মরণ করিয়ে দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার থেকেই পিআর সিস্টেম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৮০ শতাংশ জনগণ পিআর ব্যবস্থার পক্ষে। যদিও এ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবে অধিকাংশ সুফলই ইতিবাচক।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান ভোটব্যবস্থায়ও যদি এককভাবে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করে, তবে সংসদ দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই তুলনায় পিআর সিস্টেমে সব দল ও মতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, আর কোয়ালিশন সরকারও শক্তিশালী হতে পারে।
তার মতে, বিএনপির এই পদ্ধতিতে আপত্তি করার কোনো কারণ নেই, কারণ তারা নিজেরাই দাবি করেছে যে তাদের ৯০ শতাংশ ভোট আছে। সেই হিসেবে পিআর নির্বাচনে সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারবে।
ফয়জুল করীম বলেন, “জাতীয় সরকার মানেই সম্মিলিতভাবে গঠিত সরকার। আর সেই সুযোগ কেবল পিআর পদ্ধতিই দিতে পারে।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইমতিয়াজ আলম আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সহযোগী ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি আজহারুল করিম আবরার, যুগ্ম মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।