বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যেখানে এখনো হাঁটতে শেখেনি, সেখানে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি ধ্বংসাত্মক এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, পিআর পদ্ধতি এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনগণ চায় পরিচিত স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে, অপরিচিত দলীয় তালিকার প্রার্থীদের নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধার জন্য এই পদ্ধতি চাপিয়ে দিতে চাইছে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার— নির্বাচন বানচাল করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করা।
তিনি বলেন, “যখনই কোনো দল মনে করে, একটি পদ্ধতি তাদের সুবিধা এনে দেবে, তখন সেটিই জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়। পিআর পদ্ধতিকে সামনে আনার পেছনে রাজনৈতিক ঈর্ষা ও ষড়যন্ত্র কাজ করছে।”
রিজভী সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল, নেপালসহ অনেক দেশে পিআর পদ্ধতি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ডেকে এনেছে। এমনকি ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশেও এটি নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো অপরিণত গণতান্ত্রিক দেশে এই পদ্ধতি বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি ইভিএমের কথাও টেনে বলেন, “যেভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করে কারচুপি হয়েছিল, তেমনই পিআর পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।”
বিএনপির এই নেতা মনে করেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পরও যদি পিআর পদ্ধতির মতো জটিল বিষয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়, তবে তা কেবল পতিত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ খুলে দেবে। এতে দেশ আবারও ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি ১৬-১৭ বছর ধরে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথেই থাকবে। পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে জনগণকেন্দ্রিক ও বাস্তবসম্মত নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।