একটি বারের জন্য হলেও পরিক্ষামূলক ভাবে পিআর নির্বাচন চেয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। একই সাথে এই পদ্ধতির পরিক্ষা নিরিক্ষা চালানোর পর কার্যকারিতা বা উপযোগীতা জনকল্যানকর না হলে সেটি বাদ দেয়ার ব্যাপারেও মত দিয়েছেন তিনি।
একই সাথে তিনি আরো জানিয়েছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জোর করে কেন্দ্র দখল করা কিংবা রাজনৈতিক পেশী শক্তি ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ হারাবেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃ্ন্দ।
বেশ কয়েক মাস দেশে রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। ৩৩টি দল ও কয়েকটি জোট মিলে এ বিতর্ক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিএনপিসহ দু-তিনটি দল বাকিদের সাথে দ্বিমত পোষণ করছে। সেখানে বিএনপির বড় প্রশ্ন যেকোনো সংস্কার, পিআর বা সংখ্যানুপাত নির্বাচন এগুলো তো নির্বাচিত সরকারের কাজ, এগুলো এখন কীভাবে হবে?
কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আরো জানান, পিআর পদ্ধতি পৃথিবীর একানব্বটির বেশি দেশে চালু আছে। এতে জনগণের ভোটের মূল্যায়ন হয়। কোন দল দশ শতাংশ ভোট পেলে সংসদে দশ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব পাবে। বর্তমান অবন্থায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েও সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নাও থাকতে পারে।
পিআর পদ্ধতিতে দল ও আদর্শ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেখানে গৌণ। গণতন্ত্রের চর্চায় সরাসরি ও পিআর দুটি পদ্ধতিতেই কিছু না কিছু সমস্যা আছে। সে সমস্যা রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও চারিত্রিক ব্যর্থতাজনিত।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের সভায় এ পদ্ধতিসহ কিছু বিষয় পাশ না হওয়ার পিছনে দলতন্ত্র প্রবল আকারে কাজ করেছে। যারা পিআর মানেন না বা পিআর জনগণ বুঝে না বলে জিকির করেন। তাদের দলে আগে নির্বাচনী কার্যক্রমে পূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
পিআর-এর সুবিধা হলো জনগণের ভোটের মূল্যায়ন, রাজনীতিতে দাদাগিরি প্রশমন ও ছোট দল গুলোর মর্যাদা রক্ষা। অসুবিধা হলো সরকার পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের মানসিক টেনশান থাকতে হয়। রাজনৈতিক ভারসাম্যের ঝুঁকি তো আছেই।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন সরকারী অনেক কর্মকর্তা নতুন স্থানের পেস্টিং হওয়ার দু-এক সপ্তাহ বা দু-এক মাসের মধ্যে কখনও কখনও তাকে বদলি করায় হয়। তখন তো এটা মনে রাখা হয়না যে এতে প্রশাসনের ভারসাম্য ক্ষুন্ন হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রের ব্যাপাওে রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন আসছে কেন? ও ওরা কর্মচারী যা ইচ্ছা তাই করা যাবে! এখানে আর রাজনীতিবদরা স্বৈরাচার হলেও তাকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।