বিএনপির সব পদ থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়া নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজাকাররা। তিনি বলেছেন, সত্য উচ্চারণ করলেই ষড়যন্ত্রের নিশানায় পড়তে হয়। এমনকি তার মনোনয়ন বাতিল করতে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে প্রস্তুত এই গোষ্ঠী।
সোমবার বিকেলে ইটনা বিশ্বরোড মোড়ে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
“আমি আপনাদের সন্তান, আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমি ইটনা, মিটামইন, অষ্টগ্রামের সন্তান। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর মাঠে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, মিটিং-মিছিলে অংশ নিয়েছি। এগুলো একটি গোষ্ঠীর পছন্দ নয়। তাই আমার বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত চলছে। হঠাৎ শুনলাম, আমার পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরে রাতে আমার কাছে একটি চিঠি আসে, যেখানে লেখা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ—আমি নাকি ধর্মবিরোধী বক্তব্য দিয়েছি এবং বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আপনারা জানেন আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। সত্য কথা আমাকে বলতেই হবে, আর সেটাই রাজাকারদের সহ্য হয় না। আমি ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি, তখন আমাকে ফেল করানো হয়েছিল, তাও মেনে নিয়েছিলাম। পরে জাফরউল্লাহ চৌধুরীর পরামর্শে বিএনপিতে যোগ দিই। সেখান থেকেই কিছু ইসলামী সংগঠন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ধর্মবিরোধী কোনো কথা বলিনি। আমি সবসময় দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আমার বয়স এখন ৭৮ বছর। এটি আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলী রশু। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সাত্তার, মুক্তিযোদ্ধা তজু মিয়া, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
রাজনৈতিক মহলে ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সামনে এনে তিনি সরাসরি রাজাকারদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরে সমানভাবে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, তার স্থগিতাদেশের পেছনে কেবল রাজনৈতিক সমীকরণই নয়, ভেতরের দ্বন্দ্বও ভূমিকা রাখছে।