এক বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উত্তরাধিকার প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন। দীর্ঘ ৪৪ বছর দলীয় সভাপতির দায়িত্বে থাকা এবং টানা তিন দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী বর্তমানে ৭৮ বছরে পা দিয়েছেন।
বয়স ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে তিনি এখন ছেলেমেয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা করছেন। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
১৯৮১ সাল থেকে টানা সভাপতির দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে কখনো উত্তরাধিকারের প্রশ্নে মুখ খোলেননি। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সংগঠন ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ ছিল সুস্পষ্ট নেতৃত্বহীনতা।
দলীয় কার্যক্রমও অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ করে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এখন ছেলেমেয়েকে অগ্রভাগে নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জয় ও পুতুল দুজনকেই নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিরও ভূমিকা থাকবে। ভারতের কংগ্রেস নেতৃত্বে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সামনে আনার মতো একই মডেল অনুসরণ করতে চাইছেন তিনি।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) থেকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে সায়মা ওয়াজেদকে। ফলে তিনি এখন পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন এবং মায়ের কাছাকাছি থেকে সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে জয় আমেরিকায় অবস্থান করলেও দলের মুখপাত্র হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই পরিকল্পনা নিয়ে তারা অবহিত। তবে বিষয়টি ভেতরে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় কেউই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে পরিবারকেন্দ্রিক দল হওয়ায় নেতৃত্বও ফার্স্ট ফ্যামিলির ভেতর থেকেই আসবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এদিকে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কার্যত উপেক্ষিত অবস্থায় রয়েছেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে বেশি ভরসা রাখছেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাসিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের ওপর।