বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের সময় পেছানোর চেষ্টা করছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার ভাষায়, “আমরা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত নই।” রোববার রাত ৮টায় সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও শহর এখন উৎসবমুখর। শহরজুড়ে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুনে সজ্জিত সড়ক আর রঙিন আলোকসজ্জা ঠাকুরগাঁওকে রূপ দিয়েছে এক প্রাণচঞ্চল নগরীতে। রাত নামতেই হাজারো মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে এসেছেন এ উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে।
আট বছর পর জেলা বিএনপির এই সম্মেলন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের একটি বড় মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার সকালে জেলা স্কুল বড় মাঠে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন মির্জা ফখরুল নিজেই। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল ১০টায় শুরু হবে প্রথম অধিবেশন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে চার প্রার্থীর মধ্যে—সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ৯০–এর দশকের ছাত্রনেতা পয়গম আলী, ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং শরিফুল ইসলাম শরীফ। জেলার ৫ উপজেলা ও ৩ পৌরসভার মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক বেছে নেবেন।
২০১৭ সালে সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাজনৈতিক নানা জটিলতা ও চাপের কারণে দীর্ঘ আট বছর ধরে নতুন সম্মেলন হয়নি। এবার সেই আক্ষেপের অবসান ঘটছে। সম্মেলন ঘিরে সুবিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে, যা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়েছে। এই আয়োজন শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের বিএনপিকে নতুন করে সংগঠিত করবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।