ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ফোন দিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করাকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দা’ বলে মন্তব্য করেছেন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের ডোর-টু-ডোর যেতে চাই, তাদের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার কথা শুনতে চাই। কিন্তু কোনো বড় নেতা এলাকার বাইরে থেকে ফোন দিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করছে—এটি সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদী কায়দা।”
তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগ করেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সৎ, দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ফোন দিয়ে চাপিয়ে দেওয়া ভোট কোনো দিন টেকসই হবে না, বরং যারা করছে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ডাকসু নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কমিশন অপেশাদার আচরণ করছে। “আমরা অনেক অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে এনে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব নয়।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু নির্বাচনকে নিয়মিত করার জন্য ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হবে, যেন প্রতি বছর একই সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষতাকে শিক্ষক নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
“ডিপার্টমেন্টে ভালো রেজাল্ট যাদের থাকবে, তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করব। অতীতে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে—এটা আমরা বন্ধ করব।”
তিনি শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেন। আবাসন সংকট দূরীকরণে নতুন হল নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাধ্য করার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “যে আশা নিয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, সেই আশা পূরণের জন্য কাজ করব।”
ডাকসু ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েমের মতে, শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারকে সম্মান জানানোই প্রকৃত গণতন্ত্রের পথ, আর ফোন করে ভোট আদায় কেবল ফ্যাসিবাদেরই প্রতিফলন।