নির্বাচনের নামে যে আয়োজন করা হচ্ছে, তা মূলত একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ডু অর ডাই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে— জনগণের শক্তি টিকে থাকবে, নাকি গণহত্যাকারী ও তাদের দোসররা আবারও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মশালা ও সমন্বয় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করা হয় বিচার, সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবিতে।
সারোয়ার তুষার বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার জন্য নানা আয়োজন চলছে। কিন্তু আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার— যারা বাংলাদেশবিরোধী রাজনীতি করেছে, যেমন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি, তাদের বাংলাদেশে আর রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আমরা বলে আসছি, বাহাত্তরের সংবিধান আর চলবে না। সেই সংবিধান জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এতে এক ব্যক্তি ও একটি দলকে সব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এই ফ্যাসিবাদী কাঠামো পরিবর্তন করতে হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি। আর সেই কাজ করতে হবে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে।”
এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনে করেন, জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত সাফল্য তখনই আসবে, যখন একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণীত হবে। তিনি বলেন, “এখন আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ এসেছে, তা শুধু নির্বাচন নয়। বরং নিশ্চিত করতে হবে, আর কোনো দল যেন জনগণকে প্রতারণা করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে না পারে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, পঞ্চগড় জেলা এনসিপি ও জাতীয় যুবশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নতুন সংবিধান ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।