জাতীয় পার্টির হাত ধরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের শঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। এই প্রসঙ্গে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ চাইলে জামায়াতের কাঁধেও ভর করতে পারে, কারণ ক্ষমতায় ফেরার জন্য তাদের কাছে যে কোনো উপায়ই গ্রহণযোগ্য।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক টেলিভিশন টক শোতে তিনি বলেন,
“আপনি গ্যারান্টি দেন কিভাবে যে জামায়াতের হাত দিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হবে না? আমরা দেখি নাই যে লোয়ার টায়ারের যারা নেতাকর্মীরা আছেন তারা প্রাণ বাঁচাতে, জান বাঁচাতে, সম্পদ বাঁচাতে, বাড়ি বাঁচাতে, ঘর বাঁচাতে, বউ বাঁচাতে, বাচ্চা বাঁচাতে জামায়াতে গিয়ে জয়েন দিয়েছে! আমরা তো দেখছি। এই জামায়াতে ইসলামী কি সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেওয়ার বক্তব্য দিয়ে তার যাত্রা শুরু করে নাই? তো তাহলে আপনি জাতীয় পার্টি বা অন্য দলের নাম নিচ্ছেন কেন?”
রুমিন ফারহানা আরও বলেন
, “আওয়ামী লীগ যদি ফেরে আওয়ামী লীগ তো জামায়াত দিয়েও ফিরতে পারে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা এখন ডিম ফুটে নতুন বাচ্চা বেরোনোর মতো। আগে ছিল মুরগির বাচ্চা, এখন হয়ে গেল হাঁসের বাচ্চা।ছিল তারা আওয়ামী লীগ, হয়ে গেল এখন শিবিরের প্রার্থী। দেখছেন না? দেখছেন তো আপনারা? তো তাহলে কে কার ঘাড়ে ভর করে কোথায় আসবে এটা তো গুপ্ত রাজনীতি। যারা করে তাদেরকে দিয়ে তো আপনি এটার গ্যারান্টি দিতে পারবেন না।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ক্ষমতাসীন দল প্রায়শই মতাদর্শিক শত্রুদের সঙ্গেও আঁতাত করে। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সংকটময় মুহূর্তে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত ধরেছে। একইভাবে জামায়াতও অতীতে ক্ষমতার খেলায় সুবিধা নেয়ার জন্য বারবার অবস্থান বদল করেছে। তাই বিরোধীদলীয় নেত্রীদের এই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তা রাজনৈতিক মহলেও আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার কৌশল খুঁজছে, আর বিএনপি আশঙ্কা করছে যে এই কৌশল হয়তো জাতীয় পার্টি নয়, জামায়াতের সঙ্গেও হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসন, আঁতাত আর স্বার্থসন্ধির এই খেলা নতুন কিছু নয়। তবে এই আলোচনার কেন্দ্রে আবারও উঠে এসেছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি আর জামায়াতের সম্ভাব্য সমীকরণ, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।