গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, যদি তাদের নেতাকর্মীদের বদলার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে একটি ইটও অক্ষত থাকত না। তবে তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি, বরং সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখছে।
বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। পরে তারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা ১৪ দলের নিষিদ্ধকরণ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং দলটির সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে পল্টন মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ খান বলেন, “আমরা যদি আমাদের নেতাকর্মীদের বলতাম তোমরা বদলা নাও, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এক টুকরা ইটও থাকতো না। আমরা সেটি করি নাই। আমরা যদি নির্দেশনা দিতাম, জিএম কাদের ও শামিম হায়দার পাটোয়ারীর অস্তিত্ব রাখা যেত না। তারা ভারত পালিয়ে যেত। কিন্তু আমরা আইনের পথে আছি।”
তিনি আরও বলেন, ২৯ আগস্টের হামলার ঘটনায় পুরো সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে দায়ী করছেন না তারা। তবে যারা নুরুল হক নুর ও তার সহকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, নারী নেত্রীদের লাঞ্ছিত করেছে এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলা করেছে—তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাশেদ খান দাবি করেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও তাদের দোসররা রাজনীতি করতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী ২২টি দল একসঙ্গে লড়াই করেছে। এখন সেই দলগুলো আবারও সংহতিতে রয়েছে এবং সবাই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিচারের দাবি তুলেছে।
তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় শাহবাগে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচিতে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী দল উপস্থিত থাকবে বলে তিনি জানান।
অবরোধের কারণে যানজটে পড়া সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, “সরকার এভাবে না বললে শোনে না, তাই আমাদের সড়ক অবরোধ করতে হয়েছে।”
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হাসান আল আল মামুন, আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, মাহফুজুর রহমান খান ও রবিউল হাসানসহ অন্যান্য নেতারা।