আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ডিজিএফআইয়ের সদস্যদের দিয়ে সংঘটিত গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতার বিচার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
সারজিস আলম লিখেন, হাসিনার আমলে ডিজিএফআই যেসব মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, সেসবের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জালিমরা যদি অন্যায় করে পার পেয়ে যায়, তবে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং মজলুম জনগণের ওপর জুলুম বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও লিখেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ যেন শুধুমাত্র ডকুমেন্টারি তৈরি বা ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে এসব খুনিদের বিচার করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সারজিস আলম জোর দিয়ে বলেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, যা ভুলে গেলে চলবে না।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি নেতা বলেন, “ওই ঘটনায় শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, সেনাবাহিনীর একাংশ, বিডিআরের একাংশ এবং দেশের বাইরের গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ছিল। এটি কোনো আকস্মিক বিদ্রোহ ছিল না, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
রাজনৈতিক মহলে সারজিস আলমের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুললেও প্রথমবারের মতো একজন জাতীয় রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে এভাবে বিচার দাবির আহ্বান জানালেন।
তার মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শেখ হাসিনার আমলে সংঘটিত সব অপকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।